বছরজুড়ে বেপরোয়া ছাত্রলীগ : ৪ মেধাবী ছাত্র খুন : বন্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে গত এক বছর সন্ত্রস্ত ও প্রকম্পিত ছিল দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দখলবাজি ও প্রতিহিংসায় উন্মত্ত হয়ে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের ওপর। টেন্ডার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রক্তপাত গত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থেকেছে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯টি মেডিকেল কলেজসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাণ হারিয়েছে চারজন মেধাবী ছাত্র। অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মী সিরাজুল ইসলাম সুমনের ছবি ছিল ২০০৯ সালের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
ছাত্রলীগের শাখা কমিটির ওপর কেন্দ্রীয় কমিটির, আবার কেন্দ্রীয় কমিটির ওপর আওয়ামী লীগের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তাতেও থামেনি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতাকর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলতা। ভর্তি বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে ক্যাম্পাসগুলোতে প্রতিনিয়তই সংগঠনটি হামলা, সংঘর্ষ, নির্যাতন, হত্যা-খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। গত ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হলেও ২ বছর আগে মেয়াদ শেষ হওয়া ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে সংগঠনটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খলতায় উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল জরুরি প্রেসিডিয়াম সভা আহ্বান করে এবং সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সভা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের হুশিয়ার করে দেয়া হয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পরের দিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রলীগ যদি ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাস, টেন্ডার ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যে-ই জড়িত হবে, তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
এক বছরে ৪ খুন : গত ৩০ মার্চ গভীর রাতে ছাত্রলীগের ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদকে একই সংগঠনের প্রতিপক্ষ গ্রুপ হত্যা করে। এর আগে গত ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শরীফুজ্জামান নোমানীকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা। ১০ মার্চ জামালপুরে শিবির নেতা হাফেজ রমজান আলী ও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম রনিকে হত্যা করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মার্চের শেষ সপ্তাহে হাটহাজারী থানার সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মির্জা শহিদুল হকের ডান হাত কেটে নেয়।
ছাত্রলীগের উচ্ছৃংখলতায় বন্ধ হয় অধিকাংশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় : মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে বড় বড় সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকে। বার বার ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে সেশনজটের চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও হত্যা এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ঢাকা, সলিমুল্লাহ, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সময়ে অনির্দিষ্টকাল বন্ধ থেকেছে। প্রথম তিন মাসেই ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খলতায় বন্ধ হয় রাজশাহী সরকারি কলেজ, রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, খুলনা বিএল কলেজ, খুলনা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সিলেটের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও রাজধানীর মালিবাগের ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ।
৩১ মার্চ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদের মৃত্যুর ঘটনায় কলেজটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়। এর আগে গত ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি শরীফুজ্জামান নোমানী খুন হওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের জের ধরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় নগরীর রাজশাহী কলেজ, মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ ডিগ্রি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সিটি কলেজ ও ভেটেরিনারি কলেজ। সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ মার্চ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় খুলনা বিএল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগের দিনই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ তাদের পছন্দের ভিসির দাবিতে ১৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালায়। ৪৭ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নামকরা কলেজ দখলে নেয় ছাত্রলীগ। এ অবস্থায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ বিষয়টিই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য ‘কাল’ হয়ে দাঁড়ায়। সেসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগই ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ হয়ে টেন্ডার ও চাঁদা নিয়ে আধিপত্য বিস্তারে নামে ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২৭ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় এক মাস পর বিশ্ববিদ্যালয়টি খোলা হয়। ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। ১৮ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের গোলাগুলি হয়। ৯ জানুয়ারি রাজধানীর ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। ১০ জানুয়ারি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় খুলনা মেডিকেল কলেজের ১০ জন ছাত্র আহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। ১৪ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জের ধরে ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হল ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে কয়েকদফা। ১৪ মার্চ তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়।
চাঁদা ও টেন্ডারবাজি : ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তালিকা করে চাঁদাবাজি শুরু করে। তারা ৭/৮টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় হানা দেয়। কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়ে হাকিম চত্বরে নির্মিতব্য ‘পার্সিয়ান কালচারাল সেন্টার’-এর ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দেয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের উন্নয়ন কাজে চাঁদা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। টিএসসির ফুডকর্নার থেকে দু’দফায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নেয় ছাত্রলীগ নেতারা। আরও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রলীগ নেতারা তদবির করে ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে নোটিশ করিয়ে টিএসসি ফুডকর্নার বন্ধ করে দেয়।
ভর্তি বাণিজ্য : ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের টাকা আয়ের অন্যতম উত্স ছিল বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ ভর্তি বাণিজ্য। কোথাও দলীয় সমর্থক অধ্যক্ষদের অবৈধ সহযোগিতা, আবার কোথাও অস্ত্রের মুখে চাপ সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ নেতারা রাজধানীসহ দেশের সরকারি কলেজগুলোতে ২০০৮-০৯ সেশনে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তিতে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করে। এক্ষেত্রে সরকারও তাদের সহযোগিতা করে। রাজধানীর ইডেন, ঢাকা, তিতুমীর, কবি নজরুল, বদরুন্নেসা, সোহরাওয়ার্দী ও মিরপুর বাংলা কলেজে দু’সহস্রাধিক আসনে ছাত্রলীগ নেতারা টাকার বিনিময়ে ভর্তি করায়। অবৈধ ভর্তিতে রাজি না হওয়ায় ১৫ মার্চ ইডেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দা খায়রুন্নেসাকে ওএসডি এবং ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক সাইখুল ইসলামকে যশোর এমএম কলেজে বদলি করা হয়।
জাবিতে অর্ধশত সংঘর্ষ : ক্ষমতার প্রথম বছরে ছাত্রলীগ সবচেয়ে বেশি উচ্ছৃঙ্খলতা ছড়িয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক বছরে ছাত্রলীগের মধ্যে প্রায় অর্ধশত হামলা-সংঘর্ষ হয় এ ক্যাম্পাসে। এতে গুলিবিদ্ধ হয় কমপক্ষে ১৫ জন। আহত দেড় শতাধিক, গ্রেফতার ১০ ও বহিষ্কার হয় ১৫ জন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করার পর সভাপতি-সেক্রেটারি (সোহেল-জনি) গ্রুপের নেতাকর্মীরা এক বছর বাইরে অবস্থানের পর ১৪ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এ সময় সোহেল-জনি গ্রুপ এবং আজিবুর-অয়ন গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এসময় তাদের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। চারদিন ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এসময় বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় কমপক্ষে ৫০ শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রথমে জাবি ছাত্রলীগের কার্যক্রম এক মাস স্থগিত করে এবং পরে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
২৬ ফেব্রুয়ারি মওলানা ভাসানী হল থেকে ৩টি রিভলবার ও একটি পাইপগান উদ্ধার করে পুলিশ। শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হল ও বিশমাইল এলাকা থেকে ১১টি তাজা ককটেল উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ৩ মার্চ মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত হয় ২০ শিক্ষার্থী। এসময় হলে গণডাকাতির দায়ে ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। সংঘর্ষে জড়িত ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ১৫ ও ১৯ মার্চ মওলানা ভাসানী ও শহীদ সালাম বরকত হলের ১০ ছাত্রকে শিবির সন্দেহে ব্যাপক মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
১৯ ও ২০ এপ্রিল মীর মশাররফ হোসেন হল ও মওলানা ভাসানী হলের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে ৭-৮ জন নেতাকর্মী আহত হয়। ২৬ এপ্রিল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা ২ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে।
ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার অপরাধে ৪ জুলাই কর্তৃপক্ষ চার ছাত্রলীগ নেতার ক্যাম্পাসে যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের বাইরে অবস্থানকারী ছাত্রলীগের রিগান-পলাশ গ্রুপের নেতাকর্মীরা হলে অবস্থানকারী সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রিতম-সাব্বির গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ২৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত তন্ময় খান বাদী হয়ে সাভার থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ ছাত্রলীগ কর্মীকে ৬ মাসের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
১ বছরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ২০০ দিন : মহাজোট সরকারের প্রথম বছরে ছাত্রলীগের উচ্ছৃঙ্খলতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে প্রায় ২০০ দিন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় দুই এমপির সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ এবং ছাত্রশিবিরের মধ্যে বার বার সংঘাত-সংঘর্ষ হয়। বন্ধ হয় ক্যাম্পাস। এতে এক বছরে বিভিন্ন বিভাগে শেষ হয়েছে মাত্র এক সেমিস্টার। রাজনীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চার নামে রাজনীতি চর্চা শুরু করায় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি।
গত ২৮ এপ্রিল নবীনবরণকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি হাজী বাহার সমর্থিত ছাত্রলীগের শহর গ্রুপ এবং স্থানীয় আসনের এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী সমর্থিত ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরিণতিতে ১৫ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকে ক্যাম্পাস। পরে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৩১ আগস্ট থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকে। ৩৩ দিন পর ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাস খোলার প্রথম দিনেই ভিসির পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্রুপ। এরপর ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষকদের ধর্মঘট, হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-শিবিরের সংঘর্ষ, ভিসি অপসারণের আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বার বার বন্ধ থাকার দীর্ঘ ৮০ দিন পর গত ২৭ ডিসেম্বর ক্যাম্পাস খুলে দেয়া হয়।



