গণমুখি শব্দ জুড়লেই শিক্ষানীতি গণমুখি হবে না: গোল টেবিল বৈঠকে বাম নেতারা

Posted on January 5, 2010 | Filed under Organization News

দেশের শাসক শ্রেণী শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। যাতে করে শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা শিক্ষা লাভ করতে না পারে। শুধু উচ্চবিত্তদের জন্যই শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হিসাবে মনুষ্যত্ব অর্জনকে প্রধান্য না দিয়ে কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে মনে করা হয়েছে। একটি মাত্র গণমুখি শব্দ জুড়ে দিলেই শিক্ষানীতি গণমুখি হবে না। প্রকৃত অর্থে গণমুখি করে তোলার জন্য তার পণ্যকরণ রোধ করতে হবে। মঙ্গলবার প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির সীমাবদ্ধতা ও ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় এমনই সব কথা উঠে আসে বক্তাদের আলোচনায়।

বিকাল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসুর দ্বিতীয় তলার সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ‘প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির সীমাবদ্ধতা ও ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ছাত্র মৈত্রীর সহ-সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।

ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য নুর আহমদ বকুল, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নুহ-উল আলম লেলিন, শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ড. সাদেকা হালিম, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফসীর, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মানবেন্দ্র দেব, ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি কনক বড়ুয়া প্রমুখ।

গোল টেবিল বৈঠকে উপস্থিত বক্তারা শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা করেন। বক্তারা বলেন, অনুন্নত বিশ্বের দেশ হিসাবে বাংলাদেশে শিক্ষা সীমাহীন বৈষম্য, সামপ্রদায়িকীকরণ এবং বাণিজ্যিকীকরণের যাতাকলে পিষ্ট। এখানে টাকা যার শিক্ষা তার- এই নীতিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান সরকারের পূর্ব সময় পর্যন্ত কোন সরকারই একটি ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন, একই ধারার সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণনয়ন করতে পারেনি। বরং পূর্বের মতই শিক্ষার সামপ্রদায়িকীকরণ এবং বানিজ্যিকীকরণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৩টি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে প্রতিটির মাধ্যমে শিক্ষাকে মুষ্টিমেয় ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত করার চক্রান্ত করা হয়েছে।

তবে বক্তারা প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির প্রশংসা করে বলেন, এই শিক্ষানীতিতে কৃষি , বৃত্তিমূলক, বিজ্ঞান শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষা এবং ছেলে-মেয়ে অবাধ ও সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রস্তাবিত এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

Banner