রাবির শামসুজ্জোহা হল থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই উদ্ধার!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল থেকে শনিবার রাতে বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে। বইগুলোতে আর্ন্তজাতিক ইসলামী সংগঠন ওয়ার্ল্ড এ্যাসেম্বলী অব মুসলিম ইয়ুথ এর (ওয়ামী) সিল ছিলো বলে জানা গেছে। ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত পাঠাগার থেকে রাত ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের উপস্থিতিতে পাঁচশ বই উদ্ধার করা হয়।
জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হলে একটি সাধারণ পাঠাগার থাকলেও জোট সরকারের আমলে জামায়াতপন্থী হল প্রাধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসেনের সময়ে শিবির কর্মীরা হলের একটি কক্ষকে ওয়ামী পাঠাগার নামকরণ করে সেখানে এই বিপুল পরিমাণ বই-পুস্তক জড়ো করে এবং ওয়ামীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমান প্রাধ্যক্ষ ড. মর্ত্তুজা খালেদের যোগদানের পর থেকে ওই পাঠাগারটি বন্ধ থাকে।
শনিবার শিক্ষার্থীরা পাঠাগার চালু ও পর্যাপ্ত বই সরবরাহসহ ১১ দফা দাবিতে প্রাধ্যক্ষকে স্মারকলিপি প্রদান দেয়। সন্ধ্যা ৮টার দিকে হল প্রশাসন নিচ তলার কক্ষটির তালা খুলে বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই দেখে প্রক্টরকে অবহিত করে। পরে প্রক্টর এবং মতিহার থানার ওসির উপস্থিতিতে বইগুলো উদ্ধার করে প্রক্টরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাঠাগার থেকে সাইয়েদ আবুল আলাওয়াল মওদুদীর লেখা ইসলামী রেঁনেসা আন্দোলন, ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের লেখা আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব, মিশরের লেখক আব্দুল বাদী শাকারের আমরা দাওয়াতের কাজ কিভাবে করবসহ বিভিন্ন লেখকের প্রায় পাঁচ শতাধিক বই উদ্ধার করা হয়। বইগুলোতে ওয়ামী বাংলাদেশ শাখার সিলযুক্ত রয়েছে।
হল প্রাধ্যক্ষ ড. মর্ত্তুজা খালেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। প্রক্টর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বইগুলোর অধিকাংশই জিহাদী বই। তিনি আরো বলেন, আবাসিক হলে কোন সংগঠনের নামে কক্ষ ব্যবহারের কিংবা পাঠাগার তৈরীর অনুমতি নেই। তবুও কেন এমনটি করা হলো সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এ ব্যাপারে জোহা হল শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।



